Tuesday, February 23, 2016

এক নয়নের গল্প




সকাল থেকে আকাশটা মেঘ মেঘ । আর যে গরম একটু বৃষ্টি হলে ভাল হত । রিক্সা টা সাইড করে টং দোকান থেকে এক কাপ চা একটা নুনতা বিস্কুট আর এক গ্লাস পানি খেয়ে নিল । শরীরের ঘামটা মুছে একটা খেপের জন্য অপেক্ষা করছে । পড়নে লঙ্গি খালি গা একটা গামছা শরীরে ঝুলানো । এর মধ্য একজন ডাক দেয় এই খালি মহা খালি যাবে । মালিবাগ থেকে মহা খালি ভাড়া টা চুকিয়ে যাত্রী তুলল । কিছু দূর যেতেই যাত্রী ভদ্র লোক বলল ড্রাইভার তোমাকে চেনা চেনা লাগছে । তোমার নাম কি ?
---৫৫ বছরের চালক বলল আমার নাম রমিজ ।
--- ৩০ বছরের যুবক বলল । তোমার নাম রমিজ ।
--- হা স্যার আমার নাম রমিজ ।
--- তোমার বাড়ি
--- আমার বাড়ি কিশোর গঞ্জ জেলার করিম গঞ্জ থানার খুদি জঙ্গল বাড়ি ।
কেন স্যার ? আপনার বাড়ি কোথায় ।
--- আপনার এলাকায় ।
--- স্যার রিক্সা চালকে খুব কম মানুষ আপনে করে বলে । আগে তুমি
বলছেন আর এখন আপনি করে বলছেন !
---- আমি মহা খালি যাব না । আপনি আমাকে খিলগাঁও নিয়ে যান ।
ভাড়া যা চান দিব । একটু ভুল করে চলে আসছি । আপনার ছেলে মেয়ে
সংসার নাই ।
--- না স্যার । কিছুই নাই । এখন
--- কেন বিয়ে শাদী করেন নাই ।
---- স্যার এই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলব না ।
--- কেন
--- মানুষের জিবনে অনেক ঘটনা আছে । কিছু বলা যায় কিছু বলা যায় না।
---- ঢাকা কোথায় থাকেন ।
---- মিরহাজারি বাগ ।
--- কে কে আছে ।
---- আমি আর আমার বুড়া মা ।
---- ভাল । তাহলে বলবেন না ।
---- না স্যার । বলব না ।
---- আমাকে কি চেনা যায় ।
---- ঘার ফিরিয়ে দেখল আর একবার না স্যার চিনতে পারলাম না।
---- ভাল করে দেখেছেন ।
--- জি স্যার । দেখেছি । কিন্তু চিনতে পারি নাই । আপনার বাড়ী কি
আমাদের জেলায় ।
--- হ্যা । আপনাদের জেলায় । তা বাড়িতে যান না কত বছর ।
---- এই তো তেইশ বছর হল ।
--- কারো কথা মনে পড়ে না ।
--- আমার খবর কেউ নেয় না । আমি কার খবর নিব । স্যার আপনি কে ?
কি করেন ? মনে হয় সরকারি চাকুরি করেন ।
--- হে আপনি ঠিক বলেছেন । আমি ইঞ্জিনিয়ার । রিক্সা চালানোর আগে
কি করতেন ।
-----রিক্সা চালাবার আগে জুট মিলে চাকুরি করতাম পলাশ থানায় ।
----- তার পর ।
----- তার পর আর বলতে চাই না । আপনি খারাপ মনে করবেন ।
----- না মনে করব না ।
----- চাকুরি করা অবস্তায় এক স্যারের কথায় মিলের কিছু পাট ট্রাকে তুলে দেই । পড়ে পুলিশ চুরির অভিযোগ আমি এরেস্ট করে । যে স্যারের কথায় কাজ করলাম সেই স্যার আমাকে পুলিশে দেয় । ৫ বছর জেল খেটে বের হই ।
গ্রামে যেয়ে আর স্ত্রী পুত্র কে পাই না । শ্বশুর বাড়ি যাই তারাও বলে জানে না। জুট মিল এলাকায় যাই । তাদের আর পাই না । পরে চলে যাই চিটাগাং । সেই খানে ১২ বছর থাকি । পরে ছোট ভাই ঢাকা নিয়ে আসে । এখন সে বিয়ে
করে আলাদা আর আমি মা কে নিয়ে থাকি ।
---- ছেলে কে আর পান নাই ।
---- না আর পাই নাই । অনেক বার তার মামাদের সাথে যোগাযোগ করেছি । বিচার বসাইছি । তারা আরও বলে আমার নামে মামলা করবে আমি নাকি ওদের বোন কে মেরে ফেলেছি । স্যার কাউকে বলতে চাই না । মানুষ হিসাবে
আমি খুব খারাপ । মিথ্যা মামলা জেল । সব মিলাইয়া আজ ও খুব কষ্ট পাই ।
স্যার আমার বউ অনেক সুন্দর ছিল । আমি বিয়া করেছিলাম নান্দাইল ।
এটা ।
--- আপনার ছেলের নাম কি ছিল
--- আমার ছেলেটা তার মায়ের রঙ পাইছিল নাম রাখছিলাম নয়ন । নয়ন
ছিল স্যার নয়নের মত । মেইল গেইটে ছুটির সময় আমার জন্য চলে আসত ।
রিক্সার যুবক বলল- আপনার জীবন টা যেই লোক নষ্ট করল তাকে কি আপনি এখন চিনবেন ।
---- স্যার কেয়ামত পর্যন্ত চিনব । তবে ঐ লোক টাকে আমি ভুলব না ।
---- আপনি কি তাকে কি করবেন ।
---- আমি কি আর করব গরীব মানুষ । তবে একটা চর দেয়ার ইচ্ছা ।
স্যার আমি আমার জীবনের কথা কাউকে বলি না। আজ ও বলতে চাই নাই কিন্তু কথার ফাকে চলে আসছে ।
কথায় কথায় রিক্সা চলে এসেছে খিলগাঁ । গরমে শরীর দিয়ে ঘাম বেয়ে পড়ছে ।
রিক্সায় বসা ছেলেটা রিক্সা থেকে নেমে রমিজ মিয়ার দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে আর চোখের পানি রাখতে পারছে না । রমিজ মিয়া বলে স্যার আপনার চোখে পানি কেন । যুবক রমিজ মিয়া কে জরিয়ে ধরে বলে আমি
আপনার ছেলে নয়ন । রমিজ মিয়া বলে স্যার আমার সাথে মিছা কথা বলে
কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছেন । নয়ন রমিজ মিয়া কে বলে আমার সাথে ভিতরে আসুন । দারোয়ান কে ডেকে বলল এই রিক্সা টা খেয়াল রাখো । রমিজ মিয়া
যুবকের সাথে বিশাল একটা দালানে উঠে । লিফট থেকে নেমে একটা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে । রিক্সা চালক রমিজ মিয়া অবাক হয় । দেখে তার বউ সীমা ।
ছেলে বলে এখন তো বিশ্বাস হল যে আমি আপনার ছেলে । নয়ন মাকে বলে
মা আমাকে কোন চোরে জন্ম দেয় নাই । আমি কোন চোরের ছেলে না । রমিজ মিয়া কে পাশের ঘরে নিয়ে যায় । দেখে বিছানায় একটা প্যারালাইস মানুষ শুয়ে
আছে । রমিজ মিয়া বলে বাবা মরা মানুষ কে কি আর বলব । তবে এই মানুষটা যাই করুক তোমাকে মানুষের মত মানুষ করেছে । আল্লাহ তাকে মাপ করুক ।
নয়ন তার মাকে বলল - মা তোমাকে দেখার মত তোমার আরও দুই ছেলে আছে । রমিজ মিয়া এখন ঠিক বুঝে গেছে এই ম্যানেজার তার বউ কে পাওয়ার জন্য এত কিছু তার বিরোদ্ধে করেছে । রমিজ মিয়া দামি বাসা থেকে বের হয় । শেষ বারের মত আর একবার তার বউ কে দেখে বলে দোয়া করি ভাল থাক । নয়ন তার বাবার সাথে নীচে নামে । রমিয়াজ মিয়া তার ছেলে কে বলে বাবা আমার জন্য তোমার মা কে ভুল বুঝ না। মানুষের জীবন কখন কি হয় আল্লাহ্‌য় জানে । নীচে নেমে দেখে খুব বৃষ্টি হচ্ছে রমিজ মিয়া রিক্সা বের করে ছেলে এসে বলে বাবা তুমি রিক্সায় বস আমি তোমাকে চালিয়া নিয়ে যাই । ছেলে কে বুকে জড়িয়ে বলে তুমিই আমার বাবা এই রিক্সাওলা বাপরে যে তুমি
নিজের বুকে নিয়েছ । আল্লাহ যে তোমার মুখটা আবার দেখাইছে এতেই আল্লাহর কাছে আমি সুখি । ছেলে কে জোর করে রিক্সায় বসায়ে বলে নয়ন হুড তুলে দেও বাবা তোমার ঠাণ্ডা লাগবে । নয়ন বাবার রিক্সায় বসে তার বাবা তাকে বার বার পিছন ফিরে দেখে আর ব্রিস্তির কান্যা চোখে হাসে । নয়ন বলে বাবা আমি কোয়াটার পেয়েছি তুমি আমি আর দাদি এক সাথে থাকব ।নয়নের বাপ বলে বাপজান তুমি যা বলবে তাই হবে...........................।।

Saturday, December 19, 2015

রহস্য গল্প-- নীলার নীল ডায়রি

শীতের সকাল বেশ কুয়াশা পড়ছে অরন্য কুয়াশার জন্য ঠিক মতে গাড়ি চালাতে পারছে না । এমনিতে সারারাত ঘুমাই নি। রাত ৮ টায় রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছে রাস্তার অবস্তা ভাল না সস্কারের কাজ চলছে । অরন্যের চোখের বাতি নিভু নিভু করছে। কিন্তু এখন আর ঘুমিয়ে কাজ নেই। ভাবছে নাস্তাটা করে নিবে রাস্তার কোন হোটেল থেকে । মানি ব্যাগ টা পকেটে নিয়ে গাড়ি থামালো কুমিল্লার ময়না মতির কাছে একটা হোটেলে । শীতের সকাল। রাস্তা ঘাটে লোক জন তেমন নেই। দোকান গুলো এখনো খোলেনি।অরন্য আলী হোটেলের দিকে হাঁটছিল । ঘুমের কারনে চোখ খোলা রাখতে পারছি না। ভাল করে চোখে মুখে পানি দিয়ে নাস্তা করে তিন কাপ চা গ্লাসে ঢেলে নীল । চা শেষ করে আবার গাড়ি ছাড়লো । ভোর তখন প্রায় ছয়টা । কুয়াশার মধ্য কিছু বুঝে উঠার মনে হল গাড়িতে কেউ ধাক্কা খেয়েছে । গাড়িটা থামালো । পিছনে একটু দূর হাঁটার পর দেখলো ফুপিয়ে কাঁদছে। যাক বাবা বেঁচে আছে । নীল রঙের শাড়ি পরা একজন মহিলা । --কি খুব বেশি ব্যথা পেয়েছেন / - না সাইড গ্লাসের বারি ছিল । -- রাস্তা দেখে পার হবেন না । -- আরে রাস্তা পার হতে চাই নাই । বাস মনে করে হাত দেখিয়ে ছিলাম । অরন্যের গা দিয়ে যেন ৪৪০ ভোল্ট এর বিদ্যুৎ ছুঁয়ে গেলও। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।এ তো আকাশ থেকে নেমে আসা নীল পরী । মনে মনে বললো পরী তোমার ডানা গুলো কোথায় ? মেয়েটি কান্না ভেজা চোখে তাকিয়ে আছে। মেয়েটির চোখে কিছু একটা আছে। অদ্ভুত এক মায়া যা দেখলে মনে হয় বুকের ভেতর কোথায় যেন এক আদ্ভুত শূন্যতা সৃষ্টি হয়। মেয়েটিকে আবার জিজ্ঞাস করলো ঃ- কাঁদছেন কেন? ব্যথা তো পান নাই মেয়েটি কিছু বলল না। ভীতু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। অরন্য দাড়িয়ে আছে । মনে হচ্ছে মেয়েটি ভয় পাচ্ছে। অবশ্য ভয় পাবারই কথা। সারা রাত ঘুমাই নি। চোখ লাল টমেটো হয়ে আছে। চেহারার ১২ টা বেজে আছে। অরন্য বলল - আপনি কি কোনো সমস্যায় পরেছেন ? এখনে বসে এভাবে কাঁদছেন না মেয়েটি অরন্য অবাক করে দিয়ে বললঃ আমাকে একটু আপনার সাথে নিতে পারবেন? অরন্য ভ্যবচেকা খেয়ে গেল । মনে মনে এটাই ভাবছিল । অরন্য বলল--- পারব। আপনার সাথে কি কেউ নেই? ঃ না। ঃ ঠিক আছে আপনি একটু সামনে আসেন ওই খানে আমার গাড়ি আছে। মেয়েটি উঠে বসলো গাড়িতে । অরন্য নীরবতা ভেঙ্গে মেয়েটিকে জিজ্ঞাস করলো ? ঃ আপনার নাম কি? মেয়েটি মুখ তুলে তাকালো। কিন্তু কিছু বলল না। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো। হঠাৎ মেয়েটি বলে উঠলঃ আমি নীলা । আমার বাসা ঢাকা । বান্ধবির সাথে চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম এখানে বাস থেকে নেমেছিলাম। কারন আমার এক বন্ধু এখানে থাকবে বলেছিল । অরন্যঃ আপনার সাথে মোবাইল নেই। ঃ না। আমি মোবাইল ব্যবহার করি না। ঃ আপনার বাবার মা কারো ফোন নাম্বার আছে? ঃ আমি নম্বর মনে রাখতে পারি না। ঃ তো এখন কি করবেন? ঃ জানি না। মেয়েটি আবার ফুপিয়ে কান্না শুরু করল। ঃ আচ্ছা আপনি কান্না থামান। আপনি কাঁদবেন না। প্লীজ। আপনার বাসার ঠিকানা জানেন? ঃ জানি। ঃ ঠিক আছে আমি আপনাকে ওখানে পৌছে দিয়ে আসব। আপনি চিন্তা করবেন না। ঃ আপনি কিছু খেয়েছেন? ঃ না। ঠিক আছে সামনে থেকে নাস্তা করেন। তার পর আমার রওনা দিব। মেয়েটি বলল থাক নাস্তা করবো না। আমার একটা উপকার করবেন । ঃ- হ্যা কেন করবো না। আপনি যে বেঁচে আছেন । মরে গেলে তো সারা জীবন আপনার জন্য দুঃখ পেতাম ঃ- আসলে এক সময় আমরা সবাই মরা যাব । কেউ আগে কেউ পরে । ঃ- আপনার কি উপকার করবো বলুন । যে কুয়াশা সামনে গাড়িতে কিছুই দেখা যায় না। ঃ- আমি আসলে বাসা থেকে না বলে চলে আসছিলাম । আমার বান্ধবির বাড়িতে । আপনি ঃ- আমার আব্বু কে বলবেন আমাদের ঘরে পুরাত বুক সেলফে আমার একটা নীল রঙের ডাইরি আছে । ডাইরি টা পরে যদি আমাকে ক্ষমা করে তাহালে আপনি বলবেন - আমার ঠিকানা মতে চলে আসতে । আমার ঠিকানা লিখা আছে বুক সেলফের ১১৩ নং বইয়ের ১১৩নং পাতায় । ঃ- না আমি সামনে নেমে যাব । যদি আপনি আমার এ কাজ করে দেন তাহালে আপনি আব্বুর সাথে চলে আসবেন । আমাকে মেঘ নার টুল প্লাজায় নামিয়ে দিয়েন । আব্বু আসলেই ঢাকা যাব অরন্য ভাবছে ভালই হোল জীবনে এমন একটা মেয়ে সে খুজছিল শান্ত ও নরম । মেয়েটি আরামে ঘুমাচ্ছে। অরন্য তাকিয়ে আছে নীলা মেয়েটি দিকে। কি নিস্পাপ মুখ। ঘুমন্ত মানুষ কে দেখতে নিস্পাপ লাগে। মেয়েটি দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে আদ্ভুত এক মায়ার জালে আটকা পরে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এই মেয়েটির প্রেমে পরে গেছে। জানি না এমন কেন মনে হচ্ছে। মেয়েটি হতাৎ বলল থাক আমাকে ঐ বাসস্টপে নামিয়ে দিন । আমার বাসার ঠিকানা লিখে নিন । অরন্য মেয়েটিকে তার মোবাইল নাম্বার লিখে দিল । ঠিকানা লিখে নীল । মেয়েটি নেমে গেল । অরন্যের ঘুম হাড়িয়ে গেল ।পাক্কা দু ঘণ্টা । এর মধ্য কত কি ? যাই হোক বিকেলে একটা লম্বা ঘুম দিয়ে উঠে বিকেল ৪ টায় । নীলার বাসার সামনে দাড়িয়ে কলিং বেল বাজালো । এটা মাঝ বয়সী মহিলা দরজা খুলে দিলো। চেহারা একদম নীলার মত। অরন্য বলল -আপনি নিশ্চয় নীলার মা । মহিলা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। কয়েক মুহূর্ত পর উনি বলল “তুমি নীলা কে কী ভাবে চেন? অরন্য বলল নীলার সাথে কি ভাবে দেখা হয়েছে । উনি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আমাকে কিছু না বলে উনি ভিতরে চলে গেলেন। অরন্য বোকার মত দাড়িয়ে রইলো । এর মধ্য অরন্য কে ডাক দিলেন। অরন্য কে একটি ছবি দেখালো । ছবিটি নীলার । ঃ তুমি কি ওর কথা বলছ? ঃ জি ওর কথা বলছি ঃ- ঠিক আছে বাবা ভিতরে এসো । নীলার মা কাঁদছে আর বলছে তাহালে আমার মেয়ে বেঁচে আছে । তুমি তাকে দেখেছ । নীলার বাবা কি বোকার মত কান্না করছ । কে বাবা তুমি । আমার মেয়ে মারা গেছে ৭ বছর হল । আমি তাকে নিজের হাতে লালমাই পাহারের পাশে এক গ্রামে মাটি দিয়ে এসেছি । কে বা কারা জানি ওকে মেরে রাস্তায় ফেলে গেছে । আমরা টা জানি না। মামলা টা সি আই ডি তে আছে । অরন্যের সারা শরীর আবার যেন ৪৪০ ভোল্ট এর বিদ্যুৎ ছুঁয়ে গেলও। বলেন কি ? আমি যে আজ ভোরে আমার সাথে ঢাকা আসতে চাইলো । নীলার বাবা বলল তোমার মত একজন বছর খানেক আগে একবার তোমার মত বলেছিল । যখন শুনল সে মারা গেছে তখনেই সে তাড়াতাড়ি চলে গেল । আমাকে কি জানি বলতে চেয়ে আর বলল না । না বলেই চলে গেল । অরন্য বলল - আপনি জানেন না নীলা কিভাবে মারা গেল । কার সাথে চলে গেল । নীলার বাবা বলল - নিনা খুব কম কথা বলত । ও ছিল শান্ত স্বভাবের । আমরা জানতেই পারি নাই কে তাকে নিয়ে গেল । তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে । অরন্য বলল- আপনার ঘরে পুরাতন বুক সেলফ টা কোথায় । আমাকে নিয়ে জান । অরন্য চেয়ে আছে শত শত বই। একটা একটা করে খুঁজে লাগলো নীল রঙের ডাইরি । পেয়ে গেল । নীলার বাবাকে ডাইরি টা দিল । আবার সে খুঁজতে লাগলো ১১৩ নং বই । পেয়ে গেল । ১১৩ নং পাতায় দেখতে পেল একটা চিঠি ,ঠিকানা ও ফোন নাম্বার সব দেয়া আছে । নীলার বাবা ডাইরি পড়ছে আর কাঁদছে । নীলার মা ফোন করে সি আই ডি কে জানালো । তিন মাস পরে সেই ঘাতক পুলিশে ধরা পড়লো । মাঝে মধ্য অরন্য আসে নীলার বাসায় । আজ অরন্য নীলার বাবাকে নিয়ে সেই লাল মাই পাহারের কাছে গেল । নীলার কবরে একটা বকুল ফুলের গাছ লাগালো । চারা বকুল গাছ কিন্তু কয়েকটা বকুল ফুল আছে । বেশ কিছু দিন পরের কথা অরন্য ঘুম থেকে উঠে দেখে তার বিছানার বালিশের পাশে কিছু বকুল ফুল ..............................।।

Tuesday, December 8, 2015

কুয়াশার প্রথম রোদ

---------------------------- সেলিনা জাহান প্রিয়া ১ আজ প্রথম রোদ দেখলাম কুয়াশার ডুব দিয়েছে জানালা খুলে শীতল বাতাসে রোদ উকি দেয় ঘুমে প্রেম নয়, নতুন বউ লাজুক চাহনিতে সূর্যদয় আজ আলোর অভাব পড়েছে কুয়াশার উম চাদরের গায়ে । ২ তুমি এলে না! অভিমানী মন আমার আমিও যাব না এক পা দু পা করে বাড়ির সামনে দিয়ে পথিক যায় নিদারুণ সত্যি যে তুমি আজও আসলে না পথ ভুলে কাজল আঁখি পথ চেয়ে থাকে কুয়াশার অন্ধকারে ! ৩ আমি আজ খুব ভোরে শিউলি ফুলের মালা বানাবো কোন উষ্ণতা নয়,একমুঠো ভালবাসায় এ পথে এসো আমার মালায় থাকবে কিছু শিশির আর কুয়াশার রঙ সত্যি,যদি রোদ উঠে শিশির হাসবে কুয়াশা পালাবে ।। ৪ তুমি আসবে কি না জানি না তবুও শীত আসে শিমুল বনে কত ফুল ঝরে পথিকের পায়ে পায়ে আমি হয়ত তেমন ফুল পথিক তুমি যদি এই বন ফুল না চেন টা কি আমার ভুল তুমি আসবে ভেবে কত দিন আমি ঝরেছি বকুল হয়ে । ৫ আমার চুল আমার আলতা রাঙা পা মেহেদী মাখা হাত ধীর ধীরে কুয়সায় ঝরে পড়ে কিছু রেশমি চুড়ির শব্দ নুপুরের নিক্কনে ময়ূরীর পথ চলা কুয়াশার নীল চাদরে পথিক তুমি রোদ হয়ে এসো আমার বকুল তলের ছায়াতে । ৬ আমি দেখি পথিক তোমার পদ চিহ্ন ধুলায় মেখে থাকে সেই পথে চেয়ে থাকি কত মায়া সুধা চোখের কাজল পড়ে অনুরাগী প্রেমিক তুমি অনুরাগে ছুয়াও তোমার মায়া আমি না হয় ঘর কোনে লুকিয়ে দেখি রোদের পথ চলা । ৭ পথিক সময় চলে যায় সময়ের নিয়মে মহাকালে পথে তুমিও চলে যাও কিছু না বলে একটু আঁখির পলক দিয়ে চোখের ভাষায় তুমি আলো জ্বেলে দেখে নাও কুয়াশার প্রান যে পথে শিমুল বকুল ঝরে তাতে লিখা আছে কত মনের গান । ৮ তুমি যত বার স্পর্শ করো শীতের ঝরে পরা কুয়াশার শিশির তাতে মিশে আছে ঘর কোনে কিশোরী মেয়েটির আঁখি জল ঠোঁটে তাঁর লাজুক হাসি নাকে তাঁর লবণাক্ত জল ছবির বিন্দু ভাগ্যিস প্রেম হৃদয়ে গভীর হয় তাই ঠোঁট মুছে চুপ থাকা যায় । ৯ “ভালোবাসি” তোমার জন্য বরাদ্দ আছে গভীরতম বিশ্বাস ভালোবাসি” আত্মসমর্পণ করলাম তোমার কাছে বিশ্বাসে “ভালোবাসি” চাইলে ভালোবাসা নিতে পারো সবটুকু বিশ্বাসে “ভালোবাসি” আজ প্রথম রোদ দেখলাম কুয়াশার পথিক হৃদয়ে ।

Friday, December 4, 2015

মানুষ জন্মত যাযাবর ---------------------

------------ shelina jahan priya অচেনা পথে হেঁটে যাওয়া অজানার মাঝে আমিও একজন কত শত ফালং পথ দিয়েছি পারি জাফলং থেকে নিঝুম দ্বীপ। শুধু দু পায়ে হেঁটে চলেছি ছুটে, এক অজানা মায়ার বাঁধনে , গ্রীষ্ম থেকে শীত বর্ষার জলে পথ একলা পাড়ি দিয়েছি আমি। শুধু একটা নক্ষত্র আমি দেখছি কপ্তাইয়ের শীতল নীল জলে পাহারের চূড়ার উপর সে ডাহুকের গানে তাঁর সুর ছড়িয়েছে আমি দখিনের বাতাসে ছেড়েছি সাম্পানের তরী তাঁর ঘাটে শান্ত জলে ঢিল ছোড়ার আগে বুঝিনি তরঙ্গ আছে অনুভূতে । খেয়ালীপনায় অস্তিত্বের যোগ বিয়োগে অপ্রাপ্তির খোলসে মুড়ে তৃণ লতার নির্জনতার বাউলের গানে মাঝে আমিও একজন জলহীন খরায় শুষ্ক দু-নেত্রের ছদ্মবেশী সময়ের পথিক আমি মন সুখে ডুব দেই তিরতির কাঁপা শ্যাওলার আয়নার জলে। পথিকের উল্লাসের উনুনে ধোঁয়া জোটেনা, উড় শুধু ছাই বনফুল,থরে থরে আলোর সোপানে কিছু ভেজা জোৎস্না আমি গৃহত্যাগী,সন্ন্যাসী হয়ে নয়,পৃথিবীর একজন পথিক হয়ে আমি স্তব্ধ মৃত্তিকার সুপ্তানলে জেগে উঠি চিৎকারে পস্প কানুনে । ঘুড়ির শোকে আকাশ খেলেনা পুড়ছে যে নাটায়ের । আমি খেয়ালী, হেঁয়ালি, পৌষালী ঝরা পাতার গল্প হয়ে ঘুরে বেড়াই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বদলেছি যত অন্ধকারের জীবনের জন্য আমার পৃথিবীর খুব অল্প সময়ের অতিথি হয়ে জন্মত যাযাবর মানব জীবন শিমুলের মত সুন্দর হয়ে সবাই ফুটে সময় শেষে ঝরে পারে মাটিতে ।

Thursday, October 8, 2015

নিঝুম দ্বীপ


-----------------------------------
তোমাদের সমুদ্র সম হৃদয়ে আমি নিঝুম দ্বীপের প্রেম
যেখানে শান্ত জলরাশি নিবিড় মায়ায় ডাকে প্রাণের তরে ।
হিমালয়ের বিন্দু বিন্দু জলের পলি কনায় ভেসে আসে মমতা
ক্ষণকাল নদী মোহনা পেরিয়ে জল সমুদ্রে বাঁধে নিয়মের সংসার ।
ধ্যানের সুরভি মেখে হাঁটি সবুজ কেওরা বনে বলগা হরিণের সাথে
খুঁজে পাই তোমার সমুদ্র বুকে বিস্তৃত শাখা-প্রশাখার ডুবচর প্রেম!
আমি রাধা নই শ্যাম কেউ চাইনা শুধু বিবিধ নিয়মে সমুদ্রের দ্বীপ বালিকা
আমার চার দিক থই থই জল রাশি আমি যেন তোমার বুকেই সেই দ্বীপ
প্রেমময় প্রতিটি পলিমাটিতে লিখে যাই জীবনের বহমান সূত্রমালা
ভাঙ্গা গড়া জীবনে ভরসা শুধু বিধানের নিয়ম ভেঙে গড়ি নিঝুম দ্বীপ ।
জিবনের তোমাকে ভেবে ভেবে সূত্রের বিন্যাসে লাগে অসীমের ঢেউ
তোমার প্রেমে সমুদ্র বালিকার মন দুলে ওঠে অবেগর সাথে ব্যাকুলতায়
হয়ত বাতাসে পাল হয়ে বেসামাল নৌকায় লাগে দোলা আমার
শসমুদ্র বিশাল লোনা খেলা জলে জেগে ওঠে অপার মহিমায় নিঝুম দ্বীপ ।
সমুদ্র মন্থনের পর উঠে আসা যতো সুন্দর তার সব চেয়ে দেখ এ দ্বীপে
শুধু প্রগাঢ় নীল আমি সমুদ্রের সেই নীল পানে নীলকণ্ঠ নিঝুম বালিকা
আলোর আধারে সমুদ্রের মাঝে নক্ষত্রের রাতে মাতাল ঘোরে চেয়ে থাকি
অচেনা হয় যদি, তোমারে চিনিতে চিনিতে আবার শীতল জলে ভাসি
সমুদ্র তোমার জন্য সমস্ত গোলাপের পাপড়ি আমার আচলে রাখি তোমার জন্য
বেলা যায় জীবনের ঢেউ তোলে দ্বীপ বালিকা কিছুই জানে নাকো কেউ !
যে শিশির চলে গেছে সিঁদুর-সূর্য নিয়ে নিদারুণ মাহা কালের পথে সমুদ্র পথে
তার তরে অচেনা জনপদের নিঝুম দ্বীপ কেন জাগে অচেনা ঢেউ !

Thursday, October 1, 2015

হাতে-হাত রেখে একটু হাঁটি
---------------------------------------------
চলো হাতে-হাত রেখে একটু হাঁটি ময়ূরাক্ষী নদী’র তীর ধরে
হিম-হিম রাতের লজ্জা উষ্ণতায় ঢেকে দিয়ে আমরা দু’জন
এক টুকরো সবুজ উষ্ণতায় স্বপ্নের ভেতরে যেন ঠিকানা খুঁজি,
ঐ নদী আমার চোখের দিকে তাকাতে পারে না প্রেমের আলিঙ্গনে ।

আকাশ কাঁদুক অনিমেষে অথবা- চন্দ্র বিঁছিয়ে যাক আলগোছে
রুপোলী মায়ার জালে চলো হাতে-হাত রেখে একটু হাঁটি এ পথে
ভারী অদ্ভুত তবু অদম্য আলোর ঝলক স্পর্শ করে মায়াবী মন
শরীরে রেশমি কাপড় চড়ায়ে উষ্ণ অনুভূতি,সমুদ্রের জলে ভেজা ।
পূর্ণ-পূর্ণিমা রাতে জোছনার মেলায় চলো হাতে-হাত রেখে একটু হাঁটি
তক্ষক হয়তো ডেকেই যাবে; প্রহরে-প্রহরে তবুও রাত হবে ধীরে- ধীরে
হৃদয় গহনে ঘোরে স্মৃতির স্রোত। হায় যৌবন, ভালোবাসার কাঙালি হয়
চারদিকে বয়ে গেছে শুনশান প্রাচীনতম ময়ূরাক্ষী নদ-নদী প্রেমের জোয়ারে ।
ইথারের দুর শব্দে বাতাসে বাঁজে তার ধ্বনি রিনরিনে এক সুমধুর সুর শুনি
আমি কান পেতে শুনি ভালবাসায় আর ভাললাগার পরম আবেগে সময়
শেষ রাতের শিশির ঝকমক করে উত্তরের ঝিরিঝিরি হিমেল হাওয়ায় এ পথ
কাঁপন ধরায় আমার শরীরে ,লাজুক হেসে বলে চলো হাতে-হাত রেখে একটু হাঁটি ।
সরু অলি-গলি- মাকড়সার জাল ছোট্ট ছোট্ট নীল কুটির,জোছনা করে হেলাফেলা-
তলিয়ে যাই আমি, ভালবাসার ময়ূরাক্ষী নদী’র শীতল জলে বাতাসে ভাসে যেথা,
রজনী গন্ধার সুবাশ গায়ে মাখি আলতো হেসে আমার আমি’র নিজস্ব পৃথিবীতে
চলো হাতে-হাত রেখে একটু হাঁটি ময়ূরাক্ষী নদী’র তীর ধরে স্বপ্নের অরন্যের সাথে ।

Sunday, August 9, 2015

ব্লগার হত্যা : নেপথ্য কারণ কি ?


-------------------------------------------
বিশ্ব শান্তির জন্য ইসলামে শান্তি বিঘ্নিত হোক এমন কোন কাজ মহানবী সঃ কখনও চাননি, আমরা তার অনুসারী হিসাবেও তা চাই না ।
কোনো ধর্মকে কটাক্ষ, অপমান ও ব্যঙ্গ করা ইসলাম অনুমোদন করে না। অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপসনালয়ে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ইসলামে জায়েজ নেই। কোনো ইমানদার ব্যক্তি অমুসলিমদের উপাসনালয়ে হামলা করতে পারে না। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সদ্ব্যবহার ইসলামের অনুপম শিক্ষা। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা আমাদের প্রতিবেশী। আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠা পবিত্র কোরআনের নির্দেশ। মূর্তি ও প্রতিমা ভাংচুর করা তো দূরের কথা, তাদের গালি ও কটাক্ষ না করার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুম রয়েছে। মহানবীর (সা.) ২৩ বছরের নবুয়তি জীবনে অমুসলিমদের উপসনালয়ে আক্রমণ বা তাদের বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার হুকুম দিয়েছেন—এমন কোনো নজির ইতিহাসে নেই
সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি ও মানবতার ধর্ম ইসলামে সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই।৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদি-খ্রিস্টানদের নিয়ে যে চুক্তি করেন, তা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। ‘মদিনা সনদ’ নামে খ্যাত এ সংবিধানে স্পষ্টই উল্লেখ আছে, ‘প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে। ধর্মীয় ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। অপরাধের জন্য ব্যক্তি দায়ী হবে, সম্প্রদায়কে দায়ী করা যাবে না।
ব্লগার নিলয় নীলকে কারা হত্যা নিয়ে ব্লগে অনেক রকম কথা বলা হচ্ছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে সবারই। তিনিও তার মত প্রকাশ করেছেন। তিনি কেন নিহত হয়েছেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও একটি সংগঠন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এভাবে হত্যার দায় স্বীকার করার মধ্যে কতখানি সত্যতা আছে? আসলেই কি যারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে তারাই হত্যা করেছে নাকি অন্য কেউ সুযোগ নিয়েছে! তবে যে কোনটিই হতে পারে। কারন নিলয় নীল এর প্রোফাইল থেকে জানা যায় তিনি নিজেকে, রাজনৈতিক মতাদর্শ-সেকুলারিজম বলেছেন। আর তার লেখায়ও বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে সমালোচনা আছে।-Niloy Nil in Istition তাই এখানে একটি প্রশ্ন থেকেই যায় যদি ব্লগে লেখার কারনে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকে তবে কেউ সুযোগটা নিয়েছে কিনা? তবে হ্যাঁ, বাংলাদেশ পুলিশ অবশ্যই সত্য খুঁজে বের করবে বলে আশা করি। ব্লগার নিজ বাসায় দিনে দুপুরে খুন হলো। আহমেদ রাজিব হায়দার থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৫ জন ব্লগার বিভিন্ন সময়ে খুন হলো। এ হত্যাকান্ডের পেছনে ধর্মীয় উগ্র গোষ্ঠীকে দায়ি করা হয়। কখনো আনসারুল্লা বাংলা টিম কিংবা কখনো আনসার আল ইসলাম নামে কোন সংগঠন এসব হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে কিংবা গণমাধ্যমে মেইল পাঠিয়েছে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত একটা হত্যাকান্ডেরও ক্লু বের করতে পারেনি পুলিশ। মূলত নিহত এ পাঁচজন ব্লগারই মুক্তচিন্তার লেখক। তারা ধর্মকে নিয়ে নানা রকম কটাক্ষ্যপূর্ণ যুক্তি উপস্থাপন করে লেখালেখি করে। আর মূলত সমস্যাটি সেখানেই। কারণ বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের লোক বাস করে থাকে তাদের প্রায় ৯৯ ভাগেরও বেশি লোক তাদের ধর্মের বিষয়ে একটা সফট কর্ণার ধারন করে থাকে। তখন ১ভাগের ও কম সংখ্যক লোক যদি ধর্ম নিয়ে এমন অগ্রহণযোগ্য কটাক্ষ্যপূর্ণ সমালোচনা করে লেখালেখি করে তখন সেটা কেউই সহজভাবে নেবেনা। আমি এ ধরনের হত্যাকান্ডকে কখনো সমর্থন করিনা। এখন মানুষ ব্লগার শুনলেই মনে করে লোকটি নাস্তিক। অর্থাৎ ব্লগার আর নাস্তিক এখন সমার্থক করে ফেলা হয়েছে। এভাবে হত্যাকারীর অবশ্যই বিচার হোক কিন্তু যারা ধর্ম নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ লেখালেখি করে ধর্মীয় উগ্রগোষ্ঠীকে আরো উগ্র করে তুলছে তাদেরকে অপরাধ করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে সে জন্য কি উক্ত ব্লগারের কোন দায় নেই? গতকালকে যে ব্লগার নীলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় খুন হলো তারও লেখালেখির বিষয় ছিলো ধর্ম ও যুক্তি। তার লেখায়ও ইসলাম ধর্ম ও পবিত্রগ্রন্থ আল কুরআনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনেকবারই তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। ইসলাম ধর্বিম ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের প্রতিও তীব্রভাবে কটাক্ষ্য করা হয়েছে। তার বিভিন্ন লেখায় ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে আঘাত দেয়ার মতো যথেষ্ট আলামত পাওয়া যায়। সুতরাং মুক্তচিন্তার মানেই ধর্মীয় সমালোচনা এমন বিকৃত চিন্তার ক্ষেত্র থেকে বের হয়েই ব্লগারদের লেখালেখি করা উচিৎ। লেখার যদি সীমা নির্ধারন করা না যায়, তবে মানুষের আক্রোষেরও সীমা সম্ভব নয়। মুক্তবুদ্ধি আর মুক্ত হতিয়ার হয়তো উভয়ই মানুষের “মৌলিক অধিকার”
প্রথমে বলি মত বিরোধের জের ধরে কাউকে হত্যা করা মোটেই কোন ধর্মই সমর্থন করে না। তাই সুস্থ মস্তিক্যে বলছি নিলয় এর হত্যাকারীরা যে আদৌ ইসলামকে অনুসরন করছে না। অবশ্যই এর সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের ধরা হউক। কারন এদের দারা শান্তির ধর্ম ইসলাম বদনাম হচ্ছে তাতে সন্ধেহ নেই।
আপনার মত প্রকাশ করুন তবে সীমার মধ্যে , দেখুন তখন আপনাদের প্রতি জনসমর্থন বাড়ে কি না। আর যদি মত প্রকাশের অপব্যবহার করেই যান তাহরে ধর্মের অপব্যাখ্যাকারীদের পক্ষে সেই হাত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে জনসমর্থন বাড়বেই বাড়ছে- আর এর জন্য একমাত্র আপনারা মুক্তমনারাই দায়ী।

Friday, July 31, 2015

অবাক সোনার বাংলা



আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভাল বাসি
আমেরিকার ভিসা পাইলে বাপে ভিটা বেছি
মেয়েটার জন্য ফরেন ডলার ওলা জামাই খুঁজি ,

ইন্টার নেটে লন্ডন ক্যানাডার বুড়ি সুন্দরি দেখি ।
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভাল বাসি
এই দেশে কামাই করে বিদেশে জমি বাড়ি কিনি
ছেলে মেয়ে কে হাই হ্যালো ইংলিশ সেখাই
ঘরে বসে স্টার জলসা স্টার প্লাস দেখি ।
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভাল বাসি
আমার ছেলে মরে নেতার পিছে, নেতার ছেলে বিদেশে
আমার ভাই তোমার ভাই নেতারা সব ভাই ভাই
গরীব মানুষের ঘরের খবর নেয়ার কেউ নাই ।
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভাল বাসি
ঝুপ বুঝে কুপ মারি সেবার নামে নেতা সেজে ব্যবসা করি
নেতা ছেলে নেতা হয় রাজার ছেলে রাজা
গরীবের ট্যাক্সের টাকায় দিন রাত এয়ার কন্ডিশন চালায় ।

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভাল বাসি
রক্ত দিয়েছি রক্ত আরও দিব তবে জনতা নেতারা না
হরতাল দিয়েছি , অবরোধ দিয়েছি আরও দিব
নেতারা প্রেস কনফারেন্স করবে , আম জনতা পুরবে মরবে !!
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভাল বাসি
আমলা নেতা আর সুবিধাবাদীরা যাবে প্রাইভেট কারে
কিছু রাস্তা আছে শুধু ভি আই পি চলে টক বগীয়ে
আমজনতা লক্কড় ঝক্কর লোকাল বাসে আটকা ট্রাফিক জ্যামে ।
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভাল বাসি
সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার নাই ,আছে সব প্রাইভেটে
টেস্টের নামে গরীব ঘুরে ডাক্তারের পছন্দের ল্যাবে
আমজনতার স্বাধীনতা লাল ফিতায় নিরবে কাদে ।
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভাল বাসি

Monday, July 27, 2015

স্বপ্নের চিরকুট


গতকাল রাতের অসম্পূর্ন কল্পনায়
ইনবক্সে অচেনা এক চিরকুট!
অনেকগুলো দিন পেরিয়ে তোমার চিরকুট !
ভেবেই আমার চোখ জুড়ে দুর্দান্ত উচ্ছাসের ঢেউ!
মেঘালয়ের সাদা মেঘ আর সরছে না
চিরকুট পড়বার পর মনে হলো সব ঠিকঠাক চলছে
তোমার পাঠানো চিরকুট
যেন ছোট একটা চিঠির
জানতে পারলাম ঘর-সংসার,
নতুন অথিতি, বাড়ির ছাদ আর
তোমার সোনালী দিন গুলো
তুমি স্বনির্ভর হবার স্বপ্ন দেখছ
ভুলে থাকার আরেক নাম অভিমান!
সেই অভিমানকেই ভেবে জড়িয়ে আছে তুমি।
তোমার মতো-মেঘালয়ের পাহাড় গুলোও
যেন আজকাল অভিমান করে আছে,
তার গায়ে জমে থাকা মেঘগুলো, অবচিত।
তিলতিল করে জমে থাকা অভিমান,
তোমাকে ছেড়ে আমাকেও গ্রাস করে নিচ্ছে ক্রমশ,
তাই বোধ হয়- সম্পর্ক গুলোতে ছড়াচ্ছে ম্লান হবার পূর্বাভাস।
তুমি জানতে চেয়েছ ভালো আছি কিনা?
ভালো থাকা এখন ততটাই কঠিন-যতটা কঠিন ভুলে থাকা!
ভালো থাকার আশায় সিগারেট ছেড়েছি,
জায়গা বদলেছি, ঘর-দুয়ার, সঙ্গ সব ছেড়েছি
নিজেকে রুটিন মাফিক বেঁধে ধরেও
ভালো থাকতে পারিনি; হয়ত পারবো না।
মেমসাহেব আমারও মাটি সরে যায় পা থেকে,
যন্ত্রনা আরো বেড়ে যায় লাভ স্টোরি পড়লে।
মসজিদ গির্জা, রামকৃষ্ণ মঠ সব কিছুর সামনেই
মিথ্যে অভিনয় করে ভালো থাকার চেষ্টা করি।
অক্ষরজীবীদের চোখে অশ্মরী জন্ম নেয়
আর জানতে ইচ্ছে হয় তুমি ভালো আছো তো?
তুমি হয়ত বলবে ভালো-খারাপ থাকাটা নিজের কাছে,
হয়তোবা তাই!
কিন্তু নিজেকে কার কাছে রাখবো বলতে পারো?
আমার ভালো থাকা আর আকাশ দেখা এখন সমান কথা।
সূর্যের মতো সত্যি এই যে,
কেউ হয়ত জানবেনা কোনদিন,হয়ত আমি আর-
খোলা আকাশ জানবে মন খারাপের কথা।
জানবে আমার ভাবনাতেও বিরহের তুলির আঁচর পড়ে,
সোনালী সে সময়কার সব স্মৃতির পাতায় আজ বন্দি।
আজকাল তোমার মতো কারো মুখায়ব দেখলেই ছুটে যাই,
সেই খরগোসের মতো দাঁত, সেই হাসি
এই বুঝি তুমি! পাথর
প্রতি মুহূর্তেই সময়ের দাসত্বের অনুবর হয়ে যাচ্ছি
ভালো কিংবা ভুলে থাকার চেষ্টায় ক্রমাগত পরাজিত
হবার শঙ্কায় ভুগছি।
তুমি ভেবে নিও মুদ্রার এ পিঠের মতো জীবন হলেও
আমি ভালো নেই;
একটু একটু করে বিক্রি হয়ে যাচ্ছি সময়ের কাছে।
জানিনা কেন তোমাকে-
খুব গভীরে, খুব গোপনে লোকচক্ষুর আড়াল করেছিলাম;
তবে মনে হতো তুমি যেন আমার রুবি পাথর
এ আলো শুধু আমার একার।
তোমাকে নিয়ে কোনদিন কিছু লেখা হয়ে উঠেনি
শুধু অচল পয়সার মতো করে লুকিয়ে রেখেছি
বুকের পাশ পকেটে
আজ শুধু বলবো,
যা আছে সুখ আমার তোমাতে মিশে যাক,
তুমি আলো হয়ে থেকো,
তোমার পৃথিবীতে,
তোমার গহীনে।

Thursday, July 23, 2015

অরন্যের পুস্প বন




তুমি অবাক হবে বলে কাক ডাকা ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল
আকাশ জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল সাদা-কালো মেঘের ভেলা
ভাললাগার হাতছানি-শুধু তুমি আসবে বলেই নামছিল বৃষ্টি
কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো ফুটেছি-শুধু তোমারই তরে অরন্য ।
মিষ্টি আম, জাম,লিচু, কাঁঠাল তুলে রেখেছিলাম ডালিতে
মনের ছোট আয়োজন- শুধু তুমি আসবে বলেই আমি অবাক
সন্ধার তারাভরা আকাশ দেখে সেজেছিলাম আমি বাসন্তী রানি
পিঠা-পায়েস রেধেছিলাম পরম মমতায় তোমার জন্য অরন্য
আলতা, টিপ, কাঁচের চুড়ি আর নীল শাড়ী স্মিত হেসে ছিলাম
তোমায় দেখাব নীল পরী আর পরীরা পালাবে লজ্জায় আকাশে ।
চোখে-মুখে ভাললাগার মেঘ ছেয়ে থাকবে তোমার হাতের ছোঁয়ায়
শাড়ী,চুড়ি পরেছি, আলতা দিয়েছি পায়ে আর কপালে পরেছি টিপ
বেনীতে জড়িয়েছি বকুল ফুলের মালা, কাজল এঁকে দিয়েছি মায়া চোখে
বুকভরা আশা, কিছু সাজসজ্জা- শুধু তুমি আসবে বলেই আমার অরন্য
তুমি অবাক হবে বলে কাক ডাকা ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল পুস্পের
আকাশ জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল সাদা-কালো মেঘের ভেলা অন্য রকম
সকালের কচি রোদ শুন্যে মিলায়, শালিকের ডানায় ভর করে আসে দুপুর
দুপুরটাকে তাড়িয়ে নেয় সাদা-কালো মেঘ, রাখলের সুরে আসে বিকাল
তাকিয়ে থাকি মেঠো পথ পানে- এইতো তুমি আসবে অরন্য এই পথে
অভিমান ভর করেছে নীল পরীর আকাশে! পুস্প ঝরে যায় অপেক্ষায়
গোধূলী বেলায় ব্যাথা জাগে মনে, সন্ধা তারায় আসে ভেসে বৃষ্টি
কাজল টানা চোখে ঝর্ণা বয়ে যায়, অভিমান জমে ভালবাসায়
সব আশাগুলো শূন্যে মিলায়, একাকীত্ব নামে অরন্যের পুস্প বনে ।

Wednesday, July 22, 2015

চন্দ্রবিজয়ী তিন নভোচারীর ঢাকা ভ্রমণ



ষাট দশকের শেষার্ধ, তখন সময়টা এমন ছিল যে পূর্ব পাকিস্তানীদের জীবনে খুব কম সময়ই উৎসবের উপলক্ষ্য আসতো। সব সময় এক আতংকে সময় কাটতো সবার, এই বুঝি পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের অধিকার, আমাদের দাবী ছিনিয়ে নিয়ে চিরতরে নিস্তব্ধ করে দিবে আমাদের মুখ। তারপরও এ সময় কিছু ব্যাপার এদেশবাসীর উৎসবের উপলক্ষ্য নিয়ে এসেছিল তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চন্দ্র বিজয়ী তিন নভোচারীর স্বস্ত্রীক ঢাকা ভ্রমণ। নভোচারীত্রয় বিশ্বভ্রমনের ১৭ টি দেশের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানে আগমন করেন।
১৯৬৯ সালের ২৭শে অক্টোবর, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা নগরী এক উৎসবমুখর বেশ ধারন করে। সারা পূর্ব পাকিস্তান থেকে হাজার হাজার নারী পুরুষের ঢল নামে ঢাকায়। তৎকালীন কুর্মিটোলা বিমান বন্দর ও ঢাকায় প্রবেশের মুল রাস্তায় প্রায় ১০ লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে। রাস্তার দু-পাশে নারী-পুরুষ, ছেলে, বুড়ো সমানে ভিড় করতে থাকে।
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের সময় মার্কিন বিশেষ বিমানটি এ্যাপোলো-১১ মিশনের নভোচারী ও চন্দ্রবিজয়ী বীর নেইল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্স এবং তাঁদের স্ত্রীদের নিয়ে যখন বিমান বন্দরে অবতরণ করেন,তখন প্রতিরক্ষা বাহিনীর আবেষ্টনী ভেদ করে জনতা বিমানের দিকে দৌড়াতে শুরু করে। তিন চন্দ্র বিজয়ী ও তাঁদের স্ত্রীরা বিমান থেকে বেরিয়ে আসলে জনতা তুমুল ও মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে তাঁদের অভিনন্দন জানায়। নভোচারীরাও হাত তুলে এ অভিবাদনের জবাব দেন। বিমান বন্দরে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা রঙীন পোষাক পরিধান করে তাঁদের ফুলের তোড়া দ্বারা বরণ করে নেয়। বিমান বন্দরে শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বহু সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থানরত বহু মার্কিন নাগরিকও বিমান বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
বিমান বন্দরটিকে নভোচারীদের ছবি ও প্রতিকৃ্তি এবং পাকিস্তান ও মার্কিন পতাকায় সুসজ্জিত করা হয়। একটি বিরাট ব্যানারে লেখা ছিল, “আপনাদের এ সাফল্যে সমগ্র মানবজাতি গৌরবান্বিত।” বিমান বন্দর হতে একখানা খোলা সেভ্রোলেট গাড়ীতে নভোচারীত্রয় এবং অপর একখানা গাড়ীতে মিসেস কলিন্স ও মিসেস অলড্রিনকে নিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে শহরের প্রায় ন’মাইল রাস্তা পরিভ্রমণ করা হয়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছেলেরা ঢোল বাজিয়ে তাঁদের অভিনন্দন জানায়। কেউ ফুলের তোড়া, কেউ ফুলের পাপড়ি, কেউবা অভিনন্দন লিখিত শব্দমালা চলন্ত গাড়ীর প্রতি নিক্ষেপ করে তাঁদের অভিনন্দন জানায়।
দীর্ঘ শোভাযাত্রা শেষে অতিথীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমান শেরাটন) পৌছেন। সেখানে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁরা ভাষণ দেন। গভীর আনন্দের সহিত তাঁরা সাংবাদিকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মহাশূন্যচারীদের আগমন উপলক্ষে তাঁদের চাঁদে অবতরণ এবং পরবর্তী বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এ সময় নভোচারীদের স্ত্রীরাও স্থানীয় বিশিষ্ট মহিলা ও মহিলা সাংবাদিকদের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন।
ঢাকা টেলিভিশন (বর্তমান বাংলাদেশ টেলিভিশন) সাধারনত সোমাবার বন্ধ থাকলেও এদিন মহাশূন্যচারীদের আগমনের দৃশ্য সরাসরি প্রচারের জন্য বিশেষ অধিবেশনের ব্যবস্থা করে। বিকেলে পূর্ব পাকিস্তান সরকার নভোচারীদের এক সম্বর্ধনা ও প্রীতিভোজের আয়োজন করে। গভর্ণমেন্ট হাউসে ৬জন বিউগল বাদকের নিনাদের মধ্য দিয়ে মহাশূন্যচারীদের আগমনীবার্তা ঘোষনা করা হয়। অনুষ্টানে উপ-মহাদেশের ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের বিশিষ্ট রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীবৃন্দ ছাড়াও শ্রমিক ও ছাত্রনেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে মহাশূণ্যচারীগণ তৎকালীন গভর্নর জনাব আহসানের সাথে উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জনাব আহসান এ অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানেরও প্রতিনিধিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী খাবারের সাথে অন্যতম আকর্ষন ছিল এ্যাপোলো-১১ রকেটের মডেল সন্নিবেশিত বিরাটকার একটি কেক। চন্দ্রবিজয়ী নভোচারী ও তাঁদের স্ত্রীদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে গভর্ণর আহসান বলেন, “এ বিরাট সাফল্য বিজ্ঞান ও কারিগরী বিজ্ঞানের বিজয় এবং একটি মহান সমাজের সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও বিপুল আকারে মানবিক ও বৈষয়িক সম্পদের সমুন্নয় সাধনেরই ফলশ্রুতি।” গভর্ণর পূর্ব পাকিস্তান ভূগোল সমিতির পক্ষ হতে মহাশূণ্যচারীদের একটি স্বর্ণপদক প্রদান করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রদানদের বাণী সম্বলিত যে ফলকটি মহাশূণ্যচারীগণ চন্দ্রতরীতে করে চাঁদে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার একটি রেপ্লিকা তারা গভর্ণরের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে উপহার দেন। পাকিস্তানের জনগণের জন্য ফেলে আসা ফলকের একটি প্রতিকৃতিও তারা আহসানের নিকট প্রদান করেন।
মাত্র একুশ ঘন্টা ঢাকায় অবস্থানের পর চন্দ্রমানবরা পরদিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় তাঁদের বিশেষ বিমানযোগে ব্যাংককের পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। বিমান বন্দরে বহু লোকজন ও সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁদের বিদায় অভিবাদন জানান। এ সময় অনেকের চোখের কোণে জলের চিলিক দেখা যায়। স্বল্পসময়েই তারা এদেশের জনগণের হৃদয়ের মণি কোঠায় স্থান করে নেন।
তথ্যসূত্র-১৯৭০ সালে প্রকাশিত গাজীউর রহমান লিখিত ‘ রকেট ও চন্দ্র বিজয়ের।
উইকিপিডিয়ারও

Tuesday, July 21, 2015

ভয়ে মরি না হে সভ্যতা


আমি ভয়ে মরি না, ভয় আমার মৃত্যুর কাছে পরাজিত
প্রতিনিয়ত নগ্ন করছো তোমারা সভ্যতা কে সভ্য হয়ে ,
সভ্যতা দিয়ে তার গলায় দিয়েছো ফাঁস দিবালোকে
কত দিন,আর কত দিন সভ্যতার পাঁয়ে থাকবে শেকল ?

মানা যায় না সভ্যতার কোন বিধান সভ্যতার অন্তরালে
অসভ্য নিবিড়তার তৃষ্ণায় জ্বলে পরকীয়ায় মাতনে প্রেম
কারুণিক ভালবাসার উষ্ণতায় আজও পথ চেয়ে দিক ভ্রান্তে
কিছুতেই চাপা দিয়ে রাখা যায়না দীর্ঘশ্বাস কাঁপা ঠোটে চুম্বনে !
আমি ভয়ে মরি না, ভয় আমার মৃত্যুর কাছে পরাজিত
মানা যায় না সভ্যতার কোন বিধান অসভ্য সমাজে
ক্ষুধা নিয়ে খেয়ে ফেলি ইতিহাসের মানচিত্র বিবেকের দায়ে
অসভ্য নিবিড়তার তৃষ্ণায় জ্বলছে বুকের মধ্য মরূদ্যান।
সহস্র মৃত্যুর সমাবেশ থেকে অবশেষে জেগে উঠে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি
মনুষ্যত্বের বিলুপ্ত চেতনায় ক্ষুধার্ত শ্মশানের পাশেই তৃষ্ণার্ত প্রেতাত্মা!
অক্ষম দেবতার চারণে ঠুকছে মাথা প্রতিনিয়ত নগ্ন বিবেকের সভ্যতা
তোমরা মানুষ বলেই মনুষ্যত্বের বিলুপ্ত নির্মমতা,যত্তো অহংকার ধুকছ ।
আমি ভয়ে মরি না, ভয় আমার মৃত্যুর কাছে পরাজিত
খুঁজে খুঁজে যেই জবাব আজ অবধি পাইনি ভাবতে ভাবতে
বিস্তীর্ণ বেদনা বয়ে যায় তনুতে অণুতে আঁতুড় ঘর থেকে
সমাজের রন্ধ্রে রান্ধ্রে যেই বর্বরতার আর্তনাদ সেই স্রোতে প্রবাহিত ।
সভ্য হলাম অসভ্য সব বসনের আধুনিক সংস্করণের মানুষ গুলো
তোমাদের মনুষ্য সভ্যতার আদর্শলিপিতে শেখা অক্ষর গুলো দেখি
নীতিবাক্যের নিকুচি করনের মধ্যদিয়ে আজ আমি সভ্য হলাম সমাজে
এছাড়া আমার আর কিছু করার সাধ্য ছিলোনা কখনোই হয়ত আমার

Monday, July 20, 2015

বর্ষায় মোহিনী প্রিয়া


বৃষ্টির খেলা সারা বেলা প্রকৃতিরই ছন্দে
অভিমানের বাঁধ ভাঙ্গা কোন ছন্দ তুলে মাতাল সুরে
বৃষ্টি নাচে তোমার তনুমন ঢেউ তুলে যাও কি ঝংকারে ?
আমি বৃষ্টি চাই আমি বৃষ্টি চাই বার বার শ্যামল ছায়া তলে ।
বৃষ্টি কি আমার বন্ধু? বৃষ্টি কি আমার চোখের জল?
কেন বৃষ্টির গভীরে আমরা লুকোই কান্না, যন্ত্রণা দেখি বার বার ,
কী আছে বৃষ্টির বুকের মাঝে? ঝিরিঝিরি শব্দে যার আমায় কাদিয়ে
মনের কোণে জমাটবাঁধা মেঘই কি জটলা করে আকাশ জুড়ে?
ঝরে পড়ে ফোঁটায় ফোঁটায় সব বেদনা নিংড়ে নিয়ে পথিকের পথে
বৃষ্টি মানে কথা ,বৃষ্টি মানে কোনও ব্যথা, বৃষ্টি মানে যন্ত্রণা, বৃষ্টিই সুখে?
আকাশে ভিড় জমাচ্ছে ঘন কালো মেঘের দল। বৃষ্টিরা আসছে হাওয়ার আঁচল উড়িয়ে।
একের পর এক স্বপ্ন বোনা হয়ে যাচ্ছে জলছবির আড়ালে বৃষ্টির মাতাল প্রকৃতিরই ছন্দে
কোথা হতে আসে এই কালো মেঘের দল?একটু একা হওয়ার জন্য ছটফট করে মন ,
কেন মনের জানালা খুলে সংসারী মনটাকে উথাল পাতাল করে তোলে?
ওগো মেঘ, আমি তোমার সঙ্গে একলা হতে চাই।
আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে চলো দূরে, দূরে—আরও দূরে নিঝুম দ্বীপে
ঘরসংসারের যেন পুতুল খেলা ঘর সে শুধু আমার নিভৃত ক্ষণ, ওগো মেঘ,
আমি ঝরে ঝরে পরতে চাই বৃষ্টি হয়ে মোহনার চরে অরন্যের বুকে ।
কী আছে বৃষ্টির বুকের মাঝে? ঝিরিঝিরি শব্দে যার চোখের জল?
কেন বৃষ্টির গভীরে আমরা লুকোই কান্না, যন্ত্রণা আর স্বপ্ন হারাই সেই জলে ?
মেঘলা আকাশ বৃষ্টি মনে করিয়ে দেয় আদিগন্ত ধানখেতের ওপর মেঘের ছায়া।
ধূসর হয়ে আসা বৃষ্টিজলে ভিজছে তালগাছের সারি, কুঁড়েঘর সংসার
অবিশ্রান্ত জলের ধারাস্নানে সে যেন এক জলজ ছায়াছবি আমারই মতন !
চিত্রকর বসেছে রং ছোপাতে বর্ষামোহিনীর ধানি-রং ঘাগরা আর মেঘ-রং ওড়নায়
যত বার তুলি বোলায়, তত বার সে মোহিনী খিলখিল হেসে জল ঢালে বৃষ্টি।
জল শুধু জল প্রিয়ার দু’নয়নে বৃথা রাঙিও না, সব রং ধুয়ে যাবে অপেক্ষার জলে
বরং রাখো আমায় তোমার রঙের পাত্রে আমি কেমন সবুজে সবুজ, নীলিমায় নীল।
চিত্রকর ভাবে, এ কে? কোন মোহিনী প্রিয়ার মায়া? বর্ষায় মোহিনী প্রিয়া ডাকে তাকে— বলে,
এসো আমায় গ্রহণ করো সমর্পণের সুরের রঙ বেরঙের মেলায় তোমার কাছে চাওয়ার ছিল
বৃষ্টিতে ভিজবো, শুধু ভিজবো সারা বেলা প্রকৃতিরই ছন্দে অভিমানের বাঁধ ভাঙ্গা বৃষ্টিতে ।।

Sunday, July 19, 2015

অনু গল্প - মতিঝিলের রিক্সা ওয়ালা


------------------------------------------------------
মতিঝিলের ব্যস্ত রাস্তায় একজন ভদ্রলোক
হারামজাদা !! চোখে দেখোস না রিকশা চালানোর সময় !!"
রিকশাচালকের উপরে চড়াও হয়ে গেলেন !!স্যুট টাই পরে অফিস থেকে ফিরছিলেন .এমন সময় এক রিকশার চাকা তার দামি প্যান্টে সামান্য চাকা দিয়ে ধূলা লাগিয়ে দেয় !!
কুত্তার বাচ্চা !! তোর রিকশা চালানো ছুটাবো আজকে !!"
"স্যার !! আমি দেখি নাই, স্যার !!"
স্যুট টাই পরিহিত একজন ভদ্রলোক একজন রিকশাওয়ালা প্রচন্ড জোরে চড় মারছেন, কিল ঘুষি মারছেন ... খুবই ইন্টারেস্টিং দৃশ্য ... অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছে, কেউ ঠেকাতে যাচ্ছে না !!
ব্যস্ত রাস্তায় অনেক আওয়াজ ...রিকশাওয়ালার গায়ের রং কালো ... তাই আকবর ভদ্র লোকের হাতের ছাপ পড়ে নি গালে !!
"যা এইখান থেকে ... এই এলাকা ছাইড়া যা শু*** বাচ্চা !!"
রিকশাওয়ালা দ্রুত রিকশা নিয়ে চলে গেলেন বাংলাদেশ ব্যাংক এর সামনে সেখান থেকে ..
ভদ্র লোক গরম মাথায় যখন রাস্তা পার হতে লাগলো এমন সময় একটা একটা মটর সাইকেল ধাক্কা দেয় ছিতকে পাশের ড্রেনে পরে একদম পা ভেঙে জায় । মটর সাইকেল খুব দ্রত চলে যায়।
লোক জন ধরা ধরি করে ঐ আগের রিক্সায় তুলে দেয় । ভদ্র লোক তার বউ কে ইসলামি ব্যাংক হাস পাতালে বলে । সাজান পুর থেকে বউ হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে এমন সময় । রিক্সা ওলা তাকে খুব যত্ন করে নাময় । কুলে করে
জরুরী বিভাগে নেয় ।
ভদ্র লোক অবাক হয়ে দেখে সেই রিক্সা ওয়ালা । ভাড়া না নিয়ে চলে গেল ।
যাওয়ার সময় বলল , স্যার স্যুট টাই পড়লে মানুষ মানুষ হয় না । মানুষ হতে হলে মন বড় হতে হয় ।

বিঃ দ্রঃ- একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে..................।

বর্ষায় মোহিনী প্রিয়া



বৃষ্টির খেলা সারা বেলা প্রকৃতিরই ছন্দে
অভিমানের বাঁধ ভাঙ্গা কোন ছন্দ তুলে মাতাল সুরে
বৃষ্টি নাচে তোমার তনুমন ঢেউ তুলে যাও কি ঝংকারে ?
আমি বৃষ্টি চাই আমি বৃষ্টি চাই বার বার শ্যামল ছায়া তলে ।
বৃষ্টি কি আমার বন্ধু? বৃষ্টি কি আমার চোখের জল?
কেন বৃষ্টির গভীরে আমরা লুকোই কান্না, যন্ত্রণা দেখি বার বার ,
কী আছে বৃষ্টির বুকের মাঝে? ঝিরিঝিরি শব্দে যার আমায় কাদিয়ে
মনের কোণে জমাটবাঁধা মেঘই কি জটলা করে আকাশ জুড়ে?
ঝরে পড়ে ফোঁটায় ফোঁটায় সব বেদনা নিংড়ে নিয়ে পথিকের পথে
বৃষ্টি মানে কথা ,বৃষ্টি মানে কোনও ব্যথা, বৃষ্টি মানে যন্ত্রণা, বৃষ্টিই সুখে?
আকাশে ভিড় জমাচ্ছে ঘন কালো মেঘের দল। বৃষ্টিরা আসছে হাওয়ার আঁচল উড়িয়ে।
একের পর এক স্বপ্ন বোনা হয়ে যাচ্ছে জলছবির আড়ালে বৃষ্টির মাতাল প্রকৃতিরই ছন্দে
কোথা হতে আসে এই কালো মেঘের দল?একটু একা হওয়ার জন্য ছটফট করে মন ,
কেন মনের জানালা খুলে সংসারী মনটাকে উথাল পাতাল করে তোলে?
ওগো মেঘ, আমি তোমার সঙ্গে একলা হতে চাই।
আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে চলো দূরে, দূরে—আরও দূরে নিঝুম দ্বীপে
ঘরসংসারের যেন পুতুল খেলা ঘর সে শুধু আমার নিভৃত ক্ষণ, ওগো মেঘ,
আমি ঝরে ঝরে পরতে চাই বৃষ্টি হয়ে মোহনার চরে অরন্যের বুকে ।
কী আছে বৃষ্টির বুকের মাঝে? ঝিরিঝিরি শব্দে যার চোখের জল?
কেন বৃষ্টির গভীরে আমরা লুকোই কান্না, যন্ত্রণা আর স্বপ্ন হারাই সেই জলে ?
মেঘলা আকাশ বৃষ্টি মনে করিয়ে দেয় আদিগন্ত ধানখেতের ওপর মেঘের ছায়া।
ধূসর হয়ে আসা বৃষ্টিজলে ভিজছে তালগাছের সারি, কুঁড়েঘর সংসার
অবিশ্রান্ত জলের ধারাস্নানে সে যেন এক জলজ ছায়াছবি আমারই মতন !
চিত্রকর বসেছে রং ছোপাতে বর্ষামোহিনীর ধানি-রং ঘাগরা আর মেঘ-রং ওড়নায়
যত বার তুলি বোলায়, তত বার সে মোহিনী খিলখিল হেসে জল ঢালে বৃষ্টি।
জল শুধু জল প্রিয়ার দু’নয়নে বৃথা রাঙিও না, সব রং ধুয়ে যাবে অপেক্ষার জলে
বরং রাখো আমায় তোমার রঙের পাত্রে আমি কেমন সবুজে সবুজ, নীলিমায় নীল।
চিত্রকর ভাবে, এ কে? কোন মোহিনী প্রিয়ার মায়া? বর্ষায় মোহিনী প্রিয়া ডাকে তাকে— বলে,
এসো আমায় গ্রহণ করো সমর্পণের সুরের রঙ বেরঙের মেলায় তোমার কাছে চাওয়ার ছিল
বৃষ্টিতে ভিজবো, শুধু ভিজবো সারা বেলা প্রকৃতিরই ছন্দে অভিমানের বাঁধ ভাঙ্গা বৃষ্টিতে ।।

Friday, July 10, 2015

স্বর্ণহৃদয় দিয়ে শুধু তোমাকেই চাই


একদিন হারিয়ে ছিলাম আমি গভীর রাতে নিঝুম অরণ্যে
এক অদ্ভূত অনুভূতিতে জোনাকি আমাকে আলো দিল ,
যে অনুভূতির আমি হয়েছিলাম সম্পূর্ণ অন্য কেউ হয়ত !
যে অনুভূতি ক্ষণে ক্ষণে বিস্ফোরিত করছিল আমাকে,
সুপারনোভা মহাবিস্ফোরণের মত
আমার হৃদয় আলো পড়ছিল যেন চতুর্দিকে;
আকাশের অসংখ্য তারার সাথে
একাত্ম হয়েছিলাম সেই রাতে আমি,
যেন পুরো আকাশভর্তি তারা হঠাৎ খসে পড়ে
সরাসরি হয়েছিল পতিত, আমার হৃদয়ে!
এক আলোকবর্ষ পর, এক মুহূর্ত পর,
মনুষ্যজীবনের সব উচ্চারণে হয়ে উঠে প্রকাশিত,
আবার পরমুহূর্তে এক প্রচন্ড চাপে
সেই একই হৃদয় পরিণত হচ্ছিল এক কৃষ্ণগহ্বরে।
সরল কণিকা থেকে প্রচন্ড আবেগে পরিণত হচ্ছিলাম
ভারী কোন মৌলে,
আবার নিউট্রনীয় আবেগে
হৃদয় পরমাণুর ভাঙ্গনও হচ্ছিল অবিরত।
তাই অবশিষ্ট নেই কোন কৌতূহল;
এখন তাই আলোকে হত্যা করি প্রচন্ড নির্মমতায়,
আর আমার গৃহকোণ ভরে উঠে অন্ধকার আলোয়।
কিন্তু নৈঃশব্দের অন্ধকারেও আমার দু’চোখ থাকে জেগে, অপলক,
তারা অসম্ভব তীব্রতায় তাদের চারপাশ দেখে যায়,
যেন অন্ধকারেই শুধু সমস্ত পৃথিবী তাদের কাছে হয়ে উঠে সুস্পষ্ট!
অবশ্য তারপরও মুক্তি পাই আমি কিছুতেই;
রূদ্ধ নিঃশ্বাসে অপেক্ষা করতে থাকি
রাত নেমে আসার পর এই আদিগন্ত বিশাল প্রান্তরে
অনুভব করে এক প্রাচীন মানবীয় শিহরণের প্রহার,
আমি চিৎকার করে উঠি-
আর কিছুই না চাইনা আজ,
তোমার ওই স্বর্ণহৃদয় দিয়ে শুধু তোমাকেই চাই
শুধু একটিবার তাকাও হে প্রভু দয়া করে ।

Tuesday, July 7, 2015

ভাবতে হয়


হাসতে গেলেও ভাবতে হয়
কাদতে গেলেও ভাবতে হয়
বলতে গেলেও ভাবতে হয়
শুনতে গেলেও ভাবতে হয়
পড়তে গেলেও ভাবতে হয়
লিখতে গেলেও ভাবতে হয়
রানতে গেলেও ভাবতে হয়
বারতে গেলেও ভাবতে হয়
আনতে গেলেও ভাবতে হয়
দিতে গেলেও ভাবতে হয়
জানতে গেলেও ভাবতে হয়
জানাতে গেলেও ভাবতে হয়
খাইতে গেলেও ভাবতে হয়
খাওয়াতে গেলেও ভাবতে হয়
ভাবনার দুনিয়াই শুধু ভাবতে হয়

Friday, June 19, 2015

পুত্রের ভালবাসা পিতার জন্য ( অনু গল্প)


----------------------------------------------- সেলিনা জাহান প্রিয়া
ছেলেঃ বাবা তুমি রোজা রাখ কেন ?
বাবাঃ আল্লাহর হুকুম । এটা ফরজ ।
ছেলেঃ বাবা রোজা ফরজ আর নামাজ ও ফরজ । তাহালে তুমি শুক্র বারে মাঝে
মাঝে নামজ পড় । তাহালে তুমি তো প্রতিদিন অনেক ফরজ বাদ দাও ।
বাবাঃ কাজের চাপে নামাজ পড়তে পারি না ।
ছেলেঃ তাহালে খুদা লাগলেও কি তুমি রোজা ভাঙ্গাবে ।
বাবাঃ না ভাংবনা
ছেলেঃ একটা কথা বলি । তুমি যে আমাদের জন্য এত দামি ইফতার কেন এটা কি
ইসলামের বিধান । কারন আমার অনেক সজন রা তা কিনতে পারে না।
খেতে পারে না । তুমি কি এসব কিনার সময় তাদের কথা ভাব ।
বাবাঃ না আমি তো ভাবি না ।
ছেলেঃ বাবা তোমার অনেক টাকা ব্যাংকে রেখেছ তা থেকে তুমি মাসিক অনেক টাকা
পাও । বাবা তুমি কি জান ইসলামে রিজেক হালাল না হলে ইবাদত হালাল না ?
বাবাঃ দেখ পুত্র তুমি আমার সন্তান তোমার কাছ থেকে কি আমাকে ইসলাম সিখতে
হবে । আমি কি হালাল হারাম বুঝি না। আমি তো মসজিদে মাদ্রাসায় অনেক
দান করি তুমি কি তা দেখ না ।
ছেলেঃ বাবা তুমি কেন আমার কাছ থেকে ইসলাম সিখবে । ইসলাম শিখার জন্য
ইসলামের ইমামদের কাছ থেকে জ্ঞান নিতে হবে যারা তোমাকে আল কুরান
ও ছহি হাদিস অনুসারে জীবন বিদান সিখাবে ।
বাবাঃ দেখ না আজ কাল ইসলামের ইমাম রা কত ভাগে বিভক্ত ।
ছেলেঃ না বাবা ইসলাম আল কুরান মতে চলে তবে তুমি যে বিভক্ত দেখছ তা কিন্তু
আল কুরান ও হাদিস মতে বিরোধ না । এটা তাদের ব্যপার তাই বলে কি
তুমি ইসলামের কাজ করবেনা । তুমি আল কুরান আর হাদিস অনুসরণ কর
। কোন ব্যাক্তি কে না ।

বাবাঃ এত জেনে কি হবে পুত্র আমার ?
ছেলেঃ আচ্ছা বাবা ধর আমার এখন রক্ত লাগবে । রক্ত না হলে আমি বাচব না ।
তুমি অনেক কষ্ট করে কিছু মানুষ আনলে আমাকে রক্ত দেয়ার জন্য । ওরা
টাকার বিনিময়ে রক্ত দিবে । তুমি অনেক টাকা দিয়ে রক্ত কিনলে । কিন্তু
ওদের দেখলে "আইচ আই ভি এইডস" আছে । তুমি কি সেই আমার জন্য
নিবে?
বাবাঃ অসম্ভব এটা কি নেয়া যাবে । কিছুতেই না ।
ছেলেঃ বাবা হারাম পথে আসা অর্থ ঠিক তেমন । তুমি সুদ খেয়ে কোন দান করলে তা
কোন কাজে আসবে না। ঘুষ খেয়ে নামাজ রোজা যাকাত কিছু হবে না । বাবা
সুদ ও ঘুষ ইসলামে হারাম হারাম ও হারাম । বাবা তুমি হালাল পথে আসো
এটাই পুত্র হয়ে পিতার নিকট ভালবাসা মনে কর ।।

Thursday, June 18, 2015

ভাবি মনে মনে


চাইবো শুধু দু'টো জিনিস যদি তুমি পারো দিতে
চুপিসারে রেখে যেও যখন আমি ঘুমিয়ে পরবো !
দিন যত হোল গোলাপ ততটাই ঝরেছে বাগানে
আজ জানতে চাই তোমার কাছে ভেজা চোখে ,
যেদিন আর গোলাপ ফোটবেনা বাগানে
সেই দিনও থাকবে কি তুমি এখানে এভাবে !
সাদা রঙের স্বপ্ন গুলো স্বপ্নিল কোন রাতে
কেঁদে কেঁদে ক্লান্ত মনের ভিতর পাঁজর ছুঁয়ে ।
চোখের আঙ্গিনায় এখনো জোছনা ছড়ায় আলো
তুমি কি আমায় আগের মতো বাসো ভালো ?
এখনো কি পুরনো চিঠি পড়ে নয়ন ভেজাও অভিমানে
এখনো কি বিকেলের রোদ গল্প বলে তোমার কানে কানে
বাতাসে কান পেতে থাকি এই বুঝি ডাকছ তুমি নাম ধরে
আছি এই তো আনন্দ, এই আনন্দের কাছে এই দ্বীপান্তর
এই মেঘ, এই ঝুম বৃষ্টি, এই শিশিরের শব্দের জন্য
আমি সহস্র বছরের বেঁচে থাকতে চাই তোমার বুকে।
এই যে মুহূর্তে, এই যে দাঁড়িয়ে থাকা কাজল চোখে
হাল্‌কা মেঘের উপচ্ছায়ায় একটি ম্লান দিনের তরে ।
অনুভবে বুঝে নিও তোমায় কতটা ভালোবাসি
ঘুম ভাঙা প্রহরে অকারনেই তোমায় ভাবি মনে মনে ।

Wednesday, June 17, 2015

ভাই সমাচার....................................


স্যার ক্লাসে এসে বলল দিদার তোমার ভাই তোমার নামে বিচার দিয়েছে
দিদারঃ কোন ভাই স্যার ?
স্যারঃ কোন ভাই মানে ? ভাই কত প্রকার বল??
দিদার: স্যার ভাই দুই প্রকার ১। আপন ভাই ২ ।সৎ ভাই
স্যারঃ হাহ! ভাই নাকি দুই প্রকার???
মফিজঃ তুমি বলো তো ভা্ই কত প্রকার??
মফিজ: ভাইয়া তিন প্রকার , ১। আপন ভাই ২।সৎ ভাই ৩। অসৎ ভাই
স্যার: :u অই তোরা একে একে ভাই কত প্রকার বলতো ??
জলিল: ভাই চার প্রকার , ১। আপন ভাই ২। সৎ ভাই ৩। অসৎ ভাই ৪। দুলাভাই
সুমনঃ ভাই পাঁচ প্রকার ১। আপন ভাই ২। সৎ ভাই ৩। অসৎ ভাই ৪। দুলাভাই
৫।দাদা ভাই
স্যার: আক্কাস তুই বল ভাই কত প্রকার?
আক্কাস: ভাই সাত প্রকার , ১। আপন ভাই ২।সৎ ভাই ৩। অসৎ ভাই ৪।
দুলাভাই ৫। দাদা ভাই ৬। চাচাতো ভাই ৭। ফুফাত ভাই
রনিঃ স্যার ভাই ৮ প্রকার -১। আপন ভাই ২।সৎ ভাই ৩। অসৎ ভাই ৪।
দুলাভাই ৫। দাদা ভাই ৬। চাচাতো ভাই ৭। ফুফাত ভাই
৮।মামাতো ভাই ৮। খালাতো ভাই।
সামাদঃস্যার ভাই ৯ প্রকার -১। আপন ভাই ২।সৎ ভাই ৩। অসৎ ভাই ৪।
দুলাভাই ৫। দাদা ভাই ৬। চাচাতো ভাই ৭। ফুফাত ভাই
৮।মামাতো ভাই ৯। খালাতো ভাই।
স্যার: জব্বার তুই বল ভাই কত প্রকার?
জব্বার: ভাই দশ প্রকার , ১। আপন ভাই ২।সৎ ভাই ৩। অসৎ ভাই ৪।
দুলাভাই ৫। দাদা ভাই ৬। চাচাতো ভাই ৭। ফুফাত ভাই
৮।মামাতো ভাই ৯। খালাতো ভাই। ভাইরা ভাই
বল্টু: ভাই অনেক প্রকার , ১। রুবেল ভাই ২।
সাকিব ভাই ৩। যদু ভাই ৪। মধু ভাই............ ......
স্যার: থাম ! থাম!!! (বুকে চাপ দিয়া)
রতন : স্যার আরেকটা ভাইয়ের কথা মনে পড়ছে
সেইটা হইলো – শ্যালার ভাই। উদাহরণ আমাদের
পাশ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়া।